মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
বুধবার (০২ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৪ জুন শুক্রবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল ১০টায় জাতীয় চা দিবসের উদ্বোধন করা হবে এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চা প্রদর্শন করা হবে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু প্যাভেলিয়ন এবং শ্রীমঙ্গলস্থ টি মিউজিয়ামে রক্ষিত চা শিল্পের দুর্লভ জিনিসপত্র প্রদর্শন করা হবে।
প্রথম জাতীয় চা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, চা শিল্পের প্রসার’।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় চা বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানি পণ্য ছিল। দেশে চায়ের উৎপান অনেক বেড়েছে, একই সাথে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চা তেমন রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। একসময় চা খেতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হলেও আজ গ্রামের মানুষও চা পান করতে অভ্যস্ত। ফলে চায়ের ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭০ সালে যেখানে চায়ের উৎপাদন ছিল মাত্র ৩১.৩৮ মিলিয়ন কেজি, সেখানে ২০১৯ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ৯৬.০৭ মিলিয়ন কেজি এবং ২০২০ সালে ৮৬.৩৯ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। ২০২০ সালে ১৯টি দেশে ২.১৯ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ১৯৯৬ সাল থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পঞ্চগড়ে সমতল ভূমিতে চা উৎপাদন শুরু হয়। দিন দিন সেখানে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার সেখানে চা উৎপাদনে উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে। চা শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। চা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চা’র বিপুল চাহিদা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে চা রপ্তানি করা সম্ভব।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে যুক্ত থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু ১৯৫৭ সালের ৪ জুলাই প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান হিসেবে চা বোর্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। গত বছরের ২০ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে দিনটিকে স্মরণীয় রাখতে জাতীয় চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।